বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩

স্পাইডারম্যানদের’ ভয়ে রাজধানীবাসী - স্বপ্ন বার্তা

 

প্রতীকী ছবি




তিনি 'স্পাইডারম্যান' (স্পাইডার-ম্যান) নামে পরিচিত যিনি মাকড়সার মতো দেয়াল ও বিল্ডিং পাইপ উঠতে পারেন।


তবে পুলিশের চোখে ইসমাইল পেশাদার চোর। ইসমাইল ঢাকার গ্রিল চুরিতে দক্ষ চোরদের একজন। তার দলে 20 জন সদস্য রয়েছে। তাদের অধিকাংশই তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করে। তথ্যের ভিত্তিতে ইসমাইল তার শিষ্যদের নিয়ে চুরি করে।


ঢাকায় ইসমাইলের মতো কয়েকজন গ্রিল চোরকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, বড় ছুটির দিনে চোররা বেশি সক্রিয় থাকে। এই সময়ে, লোকেরা সাধারণত তাদের ঘর খালি রেখে বেড়াতে যায়। বাতি দেখে চোরেরা আন্দাজ করতে পারে কোন বাড়ি খালি। যদি সন্ধ্যায় একটি বাড়িতে কোন আলো না থাকে, চোররা ধরে নেয় যে বাড়িটি খালি।


ভাজাভুজি চোর এখন রাজধানীবাসীর জন্য চরম আতঙ্কের কারণ। কারণ, এ ধরনের চুরি বাড়ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ঢাকায় ৭১৩টি বাড়ি চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। উল্লেখ্য, পুলিশ শুধু গ্রিল কেটে চুরির ঘটনাকেই সিন্ধেল চুরি বলে তালিকাভুক্ত করেছে।


এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার তুলনায় প্রকৃত চুরির ঘটনা অনেক বেশি। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে চুরির শিকার ব্যক্তিরা মামলার ঝামেলায় যেতে চান না। মামলা হলে মালামাল উদ্ধার হবে এমন আশা নেই অনেকের। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, চুরির ঘটনা তদন্তে পুলিশ আগ্রহী নয়। চোরের শাস্তি লেগে থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত ছাড়াই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। ফলে একই চোরেরা বছরের পর বছর চুরি করে।


ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, পুলিশ চুরির তদন্ত করতে চায় না, এটা ঠিক নয়। মামলা হলে তদন্ত হবে। দীর্ঘদিন মামলাটি তদন্ত করে প্রমাণ করতে না পারলেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, 'স্পাইডারম্যান' ইসমাইল জামিনে বেরিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে দুই শিক্ষার্থীসহ ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কারণ হিসেবে গত বছরের এপ্রিলে ইসমাইল ঢাকার ইস্কাটনে একটি ১০ তলা ভবনের নবম তলায় উঠে গ্রিল কেটে সাড়ে ১২ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে। ঘরের রান্নাঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকলাম।


জিজ্ঞাসাবাদে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইসমাইল খুবই চালাক। চুরির সময় সে তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়, যাতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে শনাক্ত করা না যায়। তিনি কেরানীগঞ্জে থাকতেন। সেখান থেকে ঢাকায় এসে চুরি করতেন। জামিনে মুক্ত ইসমাইল এখন কোথায় আছেন তা জানাতে পারেননি পুলিশ কর্মকর্তারা।


গ্রিল চুরি করতে গিয়ে খুনের ঘটনাও ঘটছে। গত ৯ জানুয়ারি ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল কুনিপাড়ায় একটি কারখানায় গ্রিল চুরি করতে যায় হানিফ নামে এক ব্যক্তি। পুলিশ বলছে, চুরি ঠেকাতে নিরাপত্তারক্ষী হাশেমকে হত্যা করে সে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় হানিফকে আটক করেছে পুলিশ। দিনের বেলায় সে ফেরিওয়ালা সেজে চুড়ি, ফিতা ও প্রসাধনী বিক্রির আড়ালে ঘুরে বেড়াত এবং ঠিক করত কোন ভবনে ডাকাতি করবে। রাতে বাসা, অফিস ও কলকারখানার গ্রিল কাটতেন বা ভাঙতেন।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: