জাতীয় ক্যোয়ারীর জন্য প্রসঙ্গ অনুসারে বাছাই করা পোস্ট দেখানো হচ্ছে৷ তারিখ অনুসারে বাছাই করুন সব পোস্ট দেখান
জাতীয় ক্যোয়ারীর জন্য প্রসঙ্গ অনুসারে বাছাই করা পোস্ট দেখানো হচ্ছে৷ তারিখ অনুসারে বাছাই করুন সব পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩

জন্মনিবন্ধনে ভোগান্তির শেষ কোথায় - স্বপ্ন বার্তা

জন্মনিবন্ধনে ভোগান্তির শেষ কোথায় - স্বপ্ন বার্তা

জন্মনিবন্ধনে ভোগান্তির শেষ কোথায় - স্বপ্ন বার্তা


সম্ভবত গত ২২ ডিসেম্বর বগুড়ার একজন সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন ‘জন্মনিবন্ধন সংশোধন। লাগবে ৮ হাজার টাকা। এ লজ্জা আমাদের।’ এমন আবেগি পোস্ট অনেকের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। আমিও নড়ে বসেছিলাম। এরপর বেশ কিছু ইউনিয় পরিষদ ও পৌরসভা ঘুরে দেখেছি। লাগে কত এটা ঠিক করে বলতে না পারলেও নিশ্চিত হয়েছি এ পথ চরম ভোগান্তির। সময়ের কাজ সময়ে হচ্ছে না, সরকার নির্ধারিত ফি মানছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভোগান্তি নিরসনে যে যা পারছে, দিচ্ছে। যে যা পারছে, নিচ্ছে। একদিনের পথ একমাসেও শেষ হচ্ছে না। এ ভোগান্তির শেষ কোথায়? 


দেশের সব বয়সি নাগরিকের জন্য জন্মনিবন্ধন প্রযোজ্য। জন্ম সনদ হচ্ছে একজন মানুষের জন্ম, বয়স, পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রমাণ। রাষ্ট্র-স্বীকৃত নাগরিকের মর্যাদা ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে হলে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদর্শণ করা বাধ্যতামূলক। ২০০৪ সালে জন্মনিবন্ধন আইন করা হয়, কার্যকর হয় ২০০৬ সালে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ (২০০৪ সালের ২৯নং আইন) এর আওতায় একজন মানুষের নাম, লিঙ্গ, জন্মের তারিখ ও স্থান, বাবা-মায়ের নাম, তাদের জাতীয়তা ও স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারিত নিবন্ধক কর্তৃক রেজিস্টারে লেখা বা কম্পিউটারে এন্ট্রি প্রদান ও জন্ম সনদ প্রদান করা হয়। 

সর্বশেষ নীতিমালা অনুসারে ৪৫ দিনের মধ্যে শিশুর নতুন জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করতে কোন ফি জমা দিতে হবে না। ৪৫ দিনের পর শিশুর ৫ বছর বয়স পর্যন্ত জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করতে ২৫ টাকা ফি এবং পাঁচ বছর পরে জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করতে আবেদনকারীকে প্রতিটি জন্মনিবন্ধনের জন্য ৫০ টাকা প্রদান করতে হবে। এই টাকা স্থানীয় সরকার বিভাগ অথবা নিবন্ধকের কার্যালয় গ্রহণ করবে। অথচ সরকারি ফি কত সেটা জানেন না অধিকাংশ গ্রাহক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও নিচ্ছেন ইচ্ছেমতো ফি।

সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ মাসের পর মাস ঘুরতে হয় জন্মনিবন্ধন সনদ তুলতে অথবা সংশোধন করতে। শিশুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, পাসপোর্ট ইস্যু, বিয়ে নিবন্ধন, সরকারি-বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় নিয়োগদান, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, জমি রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংক হিসাব খোলা, আমদানি ও রপ্তানি লাইসেন্স প্রাপ্তি, গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তি, ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) প্রাপ্তি, ঠিকাদারি লাইসেন্সপ্রাপ্তি, বাড়ির নকশা অনুমোদন প্রাপ্তি, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, শিশু শ্রম প্রতিরোধ ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তিসহ নানা কাজে জন্মনিবন্ধনের প্রয়োজন পড়ে। 

এ সবের মধ্যে কিছু কাজ জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে করা যায়। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করতেই জন্মনিবন্ধন সনদের প্রয়োজন পড়ে। সেই গুরুত্বপূর্ণ জন্মনিবন্ধন তৈরি, সংশোধন, ইংরেজিকরণে সাধারণ মানুষদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে জন্মনিবন্ধন বা সংশোধনের কাজে অতিরিক্ত ফি. আদায়েরও। বগুড়ার সেই পোস্টের মতো টাঙ্গাইলের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর নাগরিকদের অহরহ এমন ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে এ ভোগান্তি শুধু বগুড়া বা টাঙ্গাইলের নয়, সারাদেশের চিত্র।


শিশুদের জন্ম সনদ নিয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্কুলে ভর্তির সময় শিশুর বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম সনদ চাওয়া হয়। সময়মতো জন্মনিবন্ধন পেতে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে অভিভাবকদের। শিশুর জন্মনিবন্ধন সনদ তুলতে গিয়ে দেখা যায় শিশুদের জন্মনিবন্ধনে বাবা মায়ের নাম ভুল রয়েছে। বাবার নামে মোহাম্মদ আছে শিশুর জন্মনিবন্ধনে বাবার নামে মোহাম্মদ নেই। মায়ের নামে আক্তার থাকলে শিশুর জন্মনিবন্ধনে মায়ের নামের ঘরে বেগম লিপিবদ্ধ হয়েছে। 

অনেক ক্ষেত্রে পিতা মাতার জন্মনিবন্ধনের সাথে নামের মিল নেই জাতীয় পরিচয়পত্রের। এ ক্ষেত্রে শিশুর জন্ম নিবন্ধন করতে প্রথম ধাপে সংশোধন করতে হয় পিতামাতার নাম। ভোগান্তিটা এখান থেকেই শুরু হয়। অন্য দিকে শিশুর পিতা প্রবাসে থাকায় পাসপোর্টের নামের সাথে অনেকের মিলছে না জন্ম নিবন্ধনের নাম। এতে অভিভাবকদের আরেক ধাপে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দেশে ফিরে নতুন করে পাসপোর্ট করতে গেলে জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টে ত্রিমুখী ভুল থাকায় ভোগান্তি আরও বাড়ছে। 


সম্প্রতি বিভিন্ন স্কুলে চলছে ভর্তি। নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে থাকতে হচ্ছে ইংরেজি ভার্সনে শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন। অথচ অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীর জন্মনিবন্ধন অনলাইনে ইংরেজি ভার্সন করা নেই। এদিকে সদ্য প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী শেষ করা ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হচ্ছে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করতে জন্মনিবন্ধনের ইংরেজি ভার্সনের প্রয়োজন হওয়ায় অধিকাংশ মাধ্যমিক-নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করতেই শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধনের ইংরেজি ভার্সন নিচ্ছেন। ইংরেজি ভার্সন জন্মনিবন্ধন সনদ তুলতে দেরি হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছে না নতুন শ্রেণিতে। 

বই দিবসের ১৪ দিন পার হলেও শুধুমাত্র জন্মনিবন্ধনের ইংরেজি ভার্সন সংগ্রহ করতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থী নতুন বছরের পাঠ্য বই এখনও হাতে পায়নি। এতে বিশেষ করে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। জন্মনিবন্ধনের ইংরেজি ভার্সন তৈরি করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে ফরম পূরণ করার পর সেই আবেদন উপজেলা বা জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দিয়ে অনুমোদন করাতে হয় । কোথাও কোথাও আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনুমোদন হলেও আবার কোথাও উপজেলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সামনে স্বশরীরে হাজির হয়ে সাক্ষাতকারের মাধ্যমে আবেদন অনুমোদন করাতে হচ্ছে। উপজেলা থেকে অনুমোদিত আবেদন নিয়ে পুনরায় আবেদনকারীকে আসতে হয় নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদে। 


ভুক্তভোগীদের দাবি, ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকেই এসব সেবার ব্যবস্থা করা হোক। জন্মনিবন্ধনের প্রথম ধাপে তথ্য সংগ্রহ করা হয় স্বল্প প্রশিক্ষত জনবল দিয়ে। ফলে প্রথম পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সময় সার্টিফিকেট বা অন্যান কাগজপত্রের সাথে মিল না রেখেই এনালগ বইতে তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়। ভোগান্তিটা তখন থেকেই শুরু। এরপর ২০১০ সালে এনালগ তথ্য বহি থেকে অনলাইন সার্ভারে জন্মনিবন্ধন তথ্য স্থানান্তর করা হয়। তখন এই ভুল তথ্যগুলোই ডিজিটাল ভুলে রূপান্তরিত হয়। এরপর অনলাইনে সংশোধন করতে শুরু হয় নাগরিকদের চরম ভোগান্তি। জনবল কম থাকায় কোথাও কোথাও একযোগে অনলাইনে তথ্য স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। ফলে নাগরিকের অনলাইন সনদ পেতে দ্বিতীয় দফায় তথ্য দিতে হচ্ছে। 

২০১০ সালের পর যে সার্ভারে কাজ করা হতো, সম্প্রতি তা পাল্টানো হয়েছে। নতুন এই সার্ভারেও আগের সার্ভারের সব তথ্য স্থানান্তর হয়নি বলে জানা গেছে। এতে ভোগান্তিতে আরও বেড়েছে। জন্মনিবন্ধন করার ৯০ দিনের মধ্যে সংশোধন করতে হলে তা নিবন্ধকের কার্যালয় থেকেই সম্ভব। এরপর উপজেলা বা জেলা প্রশাসনে গিয়ে করতে হয়। সংশোধনীর জন্য নিবন্ধকের কার্যালয় থেকে আবেদন উপজেলা বা জেলা প্রশাসনে পাঠানো হয়। সেখান থেকে অনুমোদন দেয়া হলে নিবন্ধকের কার্যালয় থেকে তা সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু আবেদন দিনের পর দিন সংশোধনের জন্য পড়ে থাকে। 


তখন দ্রুত পাওয়ার জন্য মানুষ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে গিয়ে ভিড় জমান। জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সরকার আরও একটি নিয়ম যুক্ত করেছে। যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির পর, তাদের সনদ পেতে হলে মা-বাবার জন্মসনদসহ জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে জন্মসনদ কেন প্রয়োজন এই প্রশ্নও তুলছেন অনেকে। যদিও সম্প্রতি কিছুটা শিথিলযোগ্য। অন্যদিকে ২০১১ সাল থেকে যে সার্ভারে কাজ চলছিল, সেখানকার সব তথ্য বর্তমান সার্ভারে স্থানান্তর করে নিলে নতুন করে কাউকে জন্মনিবন্ধন করতে হতো না। 

পুরোনো জন্মনিবন্ধনের নম্বর দিয়ে পাসপোর্ট করেছে বা ভিসার জন্য ব্যবহার করেছে। এখন তাদের ১৭ ডিজিট নেই। নতুন করে করলে সেই নম্বর পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া বর্তমান সার্ভারের সক্ষমতার চেয়ে ব্যবহারকারী বেশি। এতে প্রায়ই ডাউন হয়ে যাচ্ছে সার্ভার। নিবন্ধন ফরম ও সংশোধনীর ফরমটাই অনেকে বুঝছে না। সংশোধণের ক্ষেত্রে জন্ম তারিখ পরিবর্তনের ফি ৫০ টাকা, বয়স সংশোধন ১০০ টাকা থাকলেও নেয়া হচ্ছে ইচ্ছে মতো।

বিবিএসের তথ্য মতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন প্রায় ১৭ কোটি। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের তথ্য মতে, গত ৬ মার্চ পর্যন্ত দেশে জন্মনিবন্ধনের পরিমাণ ১৯ কোটি ৩৫ লাখের বেশি। এ ছাড়া ৬ মার্চ পর্যন্ত সংশোধনের আবেদন জমা ছিল প্রায় ২২ লাখ। বিবিএসের পরিসংখ্যানের চেয়ে জন্মনিবন্ধন বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ জানা যায়, স্কুল পরিবর্তন বা পছন্দের স্কুলে ভর্তির জন্য অনেক অভিভাবক একাধিক জন্মনিবন্ধন সনদ নিয়েছেন। আগের সার্ভারে একাধিক জন্মনিবন্ধন কেউ করলে তা ধরা যেত না। 

তবে এখন ধরা যায়। এদিকে জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে আসা অধিকাংশ নাগরিকের অভিযোগ, প্রায়ই সার্ভার ডাউন থাকে। সার্ভার ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। সাধারণ মানুষের অভিযোগ অতিরিক্ত ফি আদায় করতে ইন্টারনেটের গতি কম, সার্ভার ডাউন ইত্যাদি অজুহাত দেখিয়ে সেবাপ্রার্থীদের দিনের পর দিন ঘোরানো হচ্ছে। 

এমনও শোনা যাচ্ছে, কোনো কোনো কেন্দ্রে অসাধু কর্মকর্তাদের হাতে কিছু টাকা তুলে দিলেই জন্মসনদ পাওয়া যায় দ্রুত। এ অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে চাই আইনের কঠোর প্রয়োগ। যেখানে জন্ম সনদ তাৎক্ষণিক প্রয়োজন সেখানে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সনদ পাচ্ছে না। অনেকের অভিযোগ, মাসের পর মাস ঘুরতে হচ্ছে সনদ পেতে। বস্তুত এ সনদ পেতে বা সংশোধনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সব শ্রেণির মানুষকেই।

শিশুদের ক্ষেত্রে ভোগান্তি আর বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে হয়রানি তো আছেই। অনেক ইউনিয়নে প্রায়ই তথ্য সেবাকেন্দ্র থেকে নোটিস জারি করা হয়। এতে বলা হয়, সার্ভার আপডেট করার জন্য সমস্যা হচ্ছে, এ কারণে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ। অনেকে বলছে সার্ভার ডাউনের জন্য জন্ম সনদ দিতে বিলম্ব হচ্ছে। এদিকে মৃত্যু সনদেও গুনতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। 

অথচ অর্থ গ্রহণের নেই কোনো রশিদ। সরকারি নির্ধারিত ফি নেয়ার পরও কোথাও কোথাও বাড়তি সার্ভিস চার্জের নোটিস টাঙানো হয়। ডিজিটাল সেবার উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানুষের ভোগান্তি কমানো। কিন্তু সেই ডিজিটাল সেবায় জন্মনিবন্ধনে ক্রমশ ভোগান্তি বেড়েই চলছে। গ্রাহক থেকে কর্মকর্তা সবাই এ বিষয় নিয়ে বিরক্তে আছেন। তবুও মিলছে না সমাধান। ইউনিয়ন কিংবা পৌরসভা সবখানে একই চিত্র। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে বিড়ম্বনা বাড়ালেও নেই কোনো জবাবদিহি। ভোগান্তির সমাধান নিয়েও কারও সদিচ্ছা নেই। সমস্যাই এখন নিয়মে পরিণত হচ্ছে। 

অধিকাংশ নাগরিকের ধারণা জন্মনিবন্ধন মানেই ঘুরতে হবে। বিড়ম্বনা পোহাতে হবে। তবে এ বিড়ম্বনার শেষ কোথায় সেটাও অজানা। গত অক্টোবরে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালন উপলক্ষে ক্ষোভও প্রকাশ করেন ঢাকার দুই মেয়র। তাদের বক্তব্যেই উঠে আসে দিনের বেলা জন্মনিবন্ধনের সার্ভার ডাউন থাকে, কখনো বন্ধও থাকে। ওই সময় লোকজন নিবন্ধন করতে পারেন না। আবার রাতে সার্ভার ঠিক থাকে। 

রাতে গ্রাহক উপস্থিত থাকার কথা না। ডিজিটাল সেবার জন্মনিবন্ধনের মতো একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এত অবহেলা কেন? এর সমাধানে জোড়ালো পদক্ষেপ নেই কেন? এ ভোগান্তির শেষই বা কোথায়।

 

সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

প্রতিষ্ঠিত হলো ‘জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ’ - স্বপ্ন বার্তা

প্রতিষ্ঠিত হলো ‘জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ’ - স্বপ্ন বার্তা

প্রতিষ্ঠিত হলো ‘জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ’ - স্বপ্ন বার্তা


স্বপ্ন বার্তা

সরকার সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য একটি 'জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ' প্রতিষ্ঠা করেছে। চলতি বছরেই এর ট্রায়াল অপারেশন শুরু হতে পারে।

সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।


বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ইউনিভার্সাল পেনশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, 2023 এর ধারা 4(1) অনুসারে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা একটি টেকসই পেনশন কাঠামোতে দেশের সকল স্তরের জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আইন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এরপর আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী শিগগিরই কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। এরপর পাবলিক প্রসিকিউশন মন্ত্রণালয় থেকে কর্তৃপক্ষের একজন নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ চার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে।


অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে 'ইউনিভার্সাল পেনশন সিস্টেম' প্রকল্পের পাইলট কর্মসূচি শুরু করতে চায়। প্রাথমিকভাবে এই কর্মসূচি ঢাকাসহ দেশের অন্য যেকোনো জেলায় চলবে, যার সর্বোচ্চ পরিমাণ থাকবে। দুই বছর সময়কাল। এর সাফল্যের ভিত্তিতে আগামী দুই বছরের মধ্যে এই কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। এটি দেশব্যাপী প্রবর্তনের পর কমপক্ষে পাঁচ বছরের জন্য ঐচ্ছিক রাখা হবে। পরবর্তীতে ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে সকলের জন্য এটি বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনে 'ইউনিভার্সাল পেনশন ম্যানেজমেন্ট বিল-২০২৩' পাস হয়। এরপর এটি একটি বিজ্ঞপ্তি আকারে জারি করা হয়। পেনশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, 2023 বলা হয়। এই আইন অনুসারে, 18 বছর এবং তার বেশি বয়স থেকে 50 বছর বয়সী সকল বাংলাদেশী নাগরিক সর্বজনীন পেনশনে অংশগ্রহণ করতে পারেন। পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিরাও বিশেষ বিবেচনায় পাবেন। এ ছাড়া বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরাও অংশ নিতে পারবেন। তবে আপাতত সরকারি ও আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়বেন।

রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩

পাকিস্তানে উপনির্বাচন, একাই ৩৩ আসনে লড়বেন ইমরান খান - স্বপ্ন বার্তা

পাকিস্তানে উপনির্বাচন, একাই ৩৩ আসনে লড়বেন ইমরান খান - স্বপ্ন বার্তা


পাকিস্তানে উপনির্বাচন, একাই ৩৩ আসনে লড়বেন ইমরান খান - স্বপ্ন বার্তা

 

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের চেয়ারম্যান ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পাকিস্তানের আসন্ন উপনির্বাচনে একাই ৩৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। 16 মার্চ দেশে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। Jio News থেকে খবর।


এর মাধ্যমে নতুন নজির গড়তে যাচ্ছেন ইমরান খান। পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ব্যক্তি এত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


 

রোববার লাহোরে পিটিআই-এর কোর কমিটির বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে পিটিআইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মাহমুদ কুরেশি এই খবর দেন। তিনি বলেন, আমরা উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং ইমরান খান সব আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।


এর আগে গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে ৮টি আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন পিটিআই চেয়ারম্যান। এর মধ্যে ৬টিতে জিতেছেন তিনি।


প্রসঙ্গত, স্পিকার রাজা পারভেজ আশরাফ পিটিআই সাংসদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর আসনগুলি শূন্য হয়।


পিটিআই নেতা ফাওয়াদ চৌধুরী ইতিমধ্যে এই মাসের শুরুতে সমস্ত শূন্য জাতীয় পরিষদের আসনে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন। 17 জানুয়ারী টুইটারে একটি বিবৃতিতে, তেহরিক-ই-ইনসাফ সমস্ত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং ইমরান খান এই 33টি আসনে তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রার্থী হবেন।


গত বছর ইমরান খানের রাষ্ট্রপতির পদ চলে যাওয়ার পর পিটিআই এমপিরা এপ্রিল মাসে জাতীয় পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তবে জুলাই মাসে স্পিকার মাত্র ১১টি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। কয়েকদিন পর মোট ১১৩টি পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়।

শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৩

নেদারল্যান্ডস-সুইডেনে কুরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ - স্বপ্ন বার্তা

নেদারল্যান্ডস-সুইডেনে কুরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ - স্বপ্ন বার্তা

 

নেদারল্যান্ডস-সুইডেনে কুরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ - স্বপ্ন বার্তা


নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনে পুলিশের নিরাপত্তায় পবিত্র গ্রন্থ আল-কুরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ চলছে।

শনিবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত বাংলাদেশ, ঢাকা জেলা ও নগর (উত্তর-দক্ষিণ) এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

বিস্তারিত আসছে..


সোমবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৩

যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াসার এমডির ১৪ বাড়ি : ১৫ দিনে প্রতিবেদন চাইলেন হাইকোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াসার এমডির ১৪ বাড়ি : ১৫ দিনে প্রতিবেদন চাইলেন হাইকোর্ট

স্বপ্ন বার্তা

 তাকসিম এ খান। ছবি : ওয়াসার ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া


ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের যুক্তরাষ্ট্রে ১৪টি বাড়ি কেনার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করা দুটি অভিযোগের অনুসন্ধানের অগ্রগতি জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনকে ১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে জানাতে বলেছেন আদালত।



আজ সোমবার (৯ জানুয়ারি) এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ মৌখিকভাবে এ আদেশ দেন। 


আদালতে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আনেন দুদকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম কলি।


আজ একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ওয়াসার তাকসিমের যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ বাড়ি!’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের একাংশে বলা হয়, একটি-দুটি নয়, ১৪ বাড়ি! দেশে নয়, সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শহরে কিনেছেন এসব বাড়ি। সব বাড়ির দাম টাকার অঙ্কে হাজার কোটি ছাড়াবে। দেশ থেকে অর্থ পাচার করে তিনি এসব বাড়ির মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাড়ি কেনার অর্থের উৎস ও লেনদেন প্রক্রিয়ার তথ্য অনুসন্ধানে নেমেছে ইন্টারপোলসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। বিপুল পরিমাণ অর্থে একের পর এক বাড়ি কেনার ঘটনায় দেশটির গোয়েন্দা তালিকায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাকসিমের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’


যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ বাড়ি কেনা এবং অর্থ পাচারকারী হিসেবে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় তাকসিম খানের নাম থাকা নিয়ে সম্প্রতি দুটি অভিযোগ জমা পড়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। অভিযোগে কিছু বাড়ির সুনির্দিষ্ট ঠিকানা, ছবি, কোন বাড়ি কখন, কত টাকায় কেনা—তা উল্লেখ করা হয়েছে। তাকসিম সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) ‘গভর্নমেন্ট ওয়াচ নোটিশ’-এর একটি কপি অভিযোগের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।


সিআইএসহ যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (ডিওজে), ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), দেশটির অন্যান্য সংস্থা ও ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল) তাকসিম এ খানের বিষয়ে কাজ করছে বলে ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে ১৩ বছরে ওয়াসার এমডির দায়িত্বে থেকে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির টাকায় যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক বাড়ি কিনেছেন তাকসিম। তার কিছু বাড়ির তথ্যপ্রমাণ এরই মধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকিগুলোর তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।’


যুক্তরাষ্ট্রে তাকসিমের বাড়ি-গাড়িসহ অঢেল সম্পদ থাকলেও দেশে তার কোনো সম্পত্তি নেই। গুলশান-২ এর ৫৫ নম্বর সড়কে সরকারি বাসভবনে তিনি থাকেন না। তিনি থাকেন নয়াপল্টনে, শ্বশুরবাড়িতে।


২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে নিয়োগ পান প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। এরপর ধাপে ধাপে সময় বাড়িয়ে তিনি এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বিতর্কিত তাকসিম এ খানের পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিধি মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।


এ ছাড়া প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো, ঠিকাদার নিয়োগে সিন্ডিকেট, ঘুষ লেনদেন, পদ সৃষ্টি করে পছন্দের লোককে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, অপছন্দের লোককে ওএসডি করাসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে ওয়াসার এমডির বিরুদ্ধে। প্রথম নিয়োগের পর থেকে মোট ছয় বার তাঁর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।


ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতির ১৩২ কোটি চার লাখ ১৭ হাজার ৪৬০ টাকা ছয়টি ব্যাংক থেকে বিভিন্ন চেকের মাধ্যমে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানের প্রত্যক্ষ মদদে ও নির্দেশে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে—এমন অভিযোগে তাকসিম এ খানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়। ওই মামলার তদন্তভার দুদকের হাতে ন্যস্ত হয়েছে।


এর আগে গত বছরের ২৫ আগস্ট তাকসিম এ খানের সব ধরনের ব্যাংক হিসাব তলব করে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।



বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৩

আইইউবিএটির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন - স্বপ্ন বার্তা

আইইউবিএটির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন - স্বপ্ন বার্তা

আইইউবিএটির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

 প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেলুন ও শান্তির প্রতীক সাদা কবুতর উড়ানো হয়

দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ৩২ বছরে পা দিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি)। এ উপলক্ষে আজ সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরার নিজস্ব ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।


সকালে বিপুল আনন্দ ও উৎসবের মধ্যদিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুর রব। জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।


এরপর আইইউবিএটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।


বিকেলে বেলুন ও শান্তির প্রতীক সাদা কবুতর উড়ানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিনা নার্গিস, রেজিস্টার অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. মো. জাহিদ হোসাইন (অব.), প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মনিরুল ইসলাম, কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল্লাহ মিয়া, ব্যবসায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাফফর আলম চৌধুরীসহ অন্য অধ্যাপকরা।


এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী অনুষ্ঠানে আরও রয়েছে সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ল্যাব প্রদর্শনী, ট্যালেন্ট হান্ট, অ্যালামনাই ডে, খেলাধুলার প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।


আইইউবিএটি বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯১ সালে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ানের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে এটি। বর্তমানে উত্তরায় ২০ বিঘার নিজস্ব সবুজ ক্যাম্পাসে ৬টি অনুষদে ১২টি প্রোগ্রাম চালু আছে এই প্রতিষ্ঠানে। যেখানে দেশের ৮ হাজার শিক্ষার্থীর সঙ্গে এশিয়া ও আফ্রিকার ১২টি দেশের শতাধিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছেন।

সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের কবলে নিউজিল্যান্ড, জরুরি অবস্থা জারি - স্বপ্ন বার্তা

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের কবলে নিউজিল্যান্ড, জরুরি অবস্থা জারি - স্বপ্ন বার্তা

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের কবলে নিউজিল্যান্ড, জরুরি অবস্থা জারি - স্বপ্ন বার্তা


স্বপ্ন বার্তা

নিউজিল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় গ্যাব্রিয়েল আঘাত হানার পর নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি বিশাল এলাকা প্লাবিত করেছে এবং হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষ ছাদে আটকা পড়েছে, ভূমিধসে বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় রাস্তাগুলো প্লাবিত হয়েছে। কিছু এলাকায় মোবাইল ফোন পরিষেবাও বন্ধ রয়েছে।


মঙ্গলবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর, প্রধানমন্ত্রী ক্রিস হিপকিন্স বলেছিলেন যে এটি একটি "নিউজিল্যান্ডবাসীদের জন্য একটি ভয়ঙ্কর রাত ছিল, বিশেষ করে উত্তর অঞ্চলে... অনেক পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে, অনেক বাড়ি বিদ্যুৎহীন ছিল এবং সারাদেশে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দেশ।"


নিউজিল্যান্ডের ঘূর্ণিঝড়-বিধ্বস্ত এলাকাগুলো মোকাবেলায় জরুরি সেবাগুলো হিমশিম খাচ্ছে। এমতাবস্থায় দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী কিয়েরান ম্যাকঅ্যানাল্টি জরুরি ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন। ছয়টি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় আরও সাহায্য পৌঁছানোর অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, এটি একটি নজিরবিহীন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা উত্তর দ্বীপের বেশিরভাগ অংশে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এতে বড় ধরনের বন্যা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও অবকাঠামো। ম্যাকঅ্যানাল্টি বলেছেন, গত রাতের আবহাওয়ার প্রতিবেদন গভীরভাবে উদ্বেগজনক।

হিপকিন্স বলেন, ঝড়ের কারণে কতজন বাস্তুচ্যুত বা আহত হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার নয়। এ ছাড়া নিহতের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৩

ভিন্নমত দমনে বীরত্বের পদক

ভিন্নমত দমনে বীরত্বের পদক

ভিন্নমত দমনে বীরত্বের পদক

 ১৯৯০ সালের কথা। মার্চ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তখনকার গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকে নিয়ে যাওয়ার পথে ৫০ লাখ টাকা ছিনতাই হয়। ওই টাকা উদ্ধার ও ছিনতাইকারীদের ধরতে পুলিশ যখন হয়রান, তখনই কল্যাণপুরে ছিনতাইকারীরা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের কাছ থেকে দুটি স্টেনগান ছিনতাই করে। সেই টাকা উদ্ধারের অভিযানে যিনি নেতৃত্ব দেন, তাঁরই লেখায় উঠে এসেছে সাজানো কাহিনি দিয়ে পুলিশ কীভাবে স্টেনগান দুটি উদ্ধার দেখিয়েছিল।


প্রায় ৩০ বছর পুলিশের বিভিন্ন পদে চাকরির অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা এক পুলিশের ডায়েরি বইয়ে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক পরিচালক সফিকউল্লাহ যা লিখেছেন, তাতে পুলিশের সরকারি ভাষ্য আর আসলে কী ঘটে, তার অদ্ভুত নজির মেলে। ২০০২ সালে পুলিশ থেকে অবসরে যাওয়ার পর বর্তমান সরকারের শুরুর দিকে প্রায় পাঁচ বছর তিনি এনএসআই ও গোয়েন্দা বিভাগে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন।


বইটির সপ্তম অধ্যায়ে সফিকউল্লাহ লিখেছেন, ‘এমন সময়ে মনে পড়ে শুক্রাবাদের লতিফের কথা। ’৮৮ সালে কমিশনার প্রার্থী ছিলেন তিনি। সেই সময়ে নির্বাচনের জন্য বরিশালের সর্বহারাদের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকায় লতিফ একটি স্টেনগান কিনেছিলেন বলে আমার কাছে তথ্য ছিল। স্টেনগানসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। ব্যাপারটিও লতিফের জানা ছিল। তাই সে সব সময় সাবধানে চলাফেরা করত।


এবার আমি সরাসরি তাকে আমার অফিসে ডেকে এনে বলি যে তোমার কাছে একটা স্টেনগান আছে। তুমি কীভাবে জোগাড় করেছ, তা-ও আমার জানা আছে। তোমার ভাগ্য ভালো যে স্টেনগানসহ তুমি ধরা পড়োনি। তুমি যদি সত্যিকার অর্থে স্টেনগানসহ ধরা পড়ে জেলে যেতে না চাও, তাহলে স্টেনগানটি আমাকে দিয়ে দাও। তোমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করব না। উল্টো তুমি যে ৬০ হাজার টাকায় স্টেনগান কিনেছ, তোমাকে তা দিয়ে দেব।’


বলার অপেক্ষা রাখে না, শুক্রাবাদের লতিফ তাঁর অবৈধ অস্ত্রটি পুলিশকে দিয়ে সে যাত্রায় রক্ষা পেয়েছেন। দ্বিতীয় স্টেনগানটি সফিকউল্লাহ জোগাড় করেন জিগাতলা-রায়েরবাজার এলাকার তখনকার কমিশনার আহমেদ হোসেন মিয়ার (প্রকৃত নাম আমজাদ হোসেন মিয়া) কাছ থেকে। মিয়া যে স্টেনগান এনে দেন, সেটি সাভারে একটি নির্বাচনের জন্য জোগাড় করা ছিল বলে তাঁর ভাষ্য।


এর পরের নাটকটুকুও সফিকউল্লাহর কথাতেই জেনে নিই, ‘আর সংগ্রহ করা স্টেনগান দুটি উদ্ধার দেখানোর ব্যবস্থা করতে বলি রুনুকে (পুলিশেরই কোনো সদস্য)। উদ্ধার দেখানোর জন্য তিনি স্টেনগান দুটির গায়ে লেখা নম্বরগুলো মুছে ফেলেন। এরপর একটা চালাকি করে সে। আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অফিস এলাকায় ছিনতাইকারীকে ধাওয়া দিচ্ছে—এমন মনগড়া গল্প বলতে থাকে ওয়্যারলেসে। একপর্যায়ে ওয়্যারলেসে জানায়, ছিনতাইকারীরা একটি স্টেনগান ফেলে পালিয়ে গেছে। নাটকীয় আয়োজন করে স্টেনগান উদ্ধার দেখানো হয়। পরদিন খিলক্ষেত এলাকা থেকে একইভাবে উদ্ধার দেখানো হয় আরেকটা।’


দুঃখজনক হলেও সত্যি, চলতি বছরের পদকেও এর কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। এবার পুরস্কৃত করা হয়েছে নির্দিষ্টভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের জন্য। প্যারেড গ্রাউন্ডের সৌন্দর্যবর্ধন এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে পুলিশের গোপন নথি সংকলন করে প্রকাশের জন্য দুটি পদক বাদ দিলে বাকিগুলোর অধিকাংশই দেওয়া হয়েছে বিরোধী দলকে দমনে সাফল্যের জন্য। নিউ এজ পত্রিকা পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য যেসব সম্মাননাপত্র তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে বিষয়টির কতটা রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হয়েছে 


বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শুনলেই আমার এক পুলিশের ডায়েরির কথা মনে পড়ে। বইটিতে আরও অনেক ঘটনা আছে, যেগুলো থেকে পুলিশের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্ক কিংবা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কী ধরনের যোগাযোগ ঘটে, তার কিছুটা ধারণা মেলে। তবে সবচেয়ে বেশি যে ভাবনা বিচলিত করে তোলে, তা হলো দলীয় আনুগত্যের কারণে যদি এ রকম নাটক সাজানো হয়, তাহলে অবস্থাটা কেমন হতে পারে।


প্রতিবছরের মতো এবারও জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে হয়ে গেল পুলিশ সপ্তাহ। বছরে এই একটি অনুষ্ঠান পুলিশ খুবই আড়ম্বরের সঙ্গে পালন করে থাকে। আগের বছরের কাজের স্বীকৃতির জন্য পুলিশের নানা স্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যদের পদক দেওয়া হয়। এবারও সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের জন্য পুলিশ ও র‍্যাবের মোট ১১৭ জনকে ‘বিপিএম’, ‘পিপিএম’, ‘বিপিএম সেবা’ ও ‘পিপিএম সেবা’ পদক দেওয়া হয়েছে। পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের তালিকা এবং কাকে, কেন, কোন পদক দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে কেউ খুব একটা মাথা ঘামায়নি।


টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে একের পর এক প্রায় দেড় শ ‘বন্দুকযুদ্ধের কৃতিত্বের’ জন্য পুলিশের সর্বোচ্চ পদক পেয়েছিলেন ২০১৯ সালে। হত্যা মামলায় তাঁর দণ্ড হওয়ার পর পুলিশের পদক তালিকার বিষয়টি নিশ্চয়ই আলোচনার দাবি রাখে। এই দণ্ডাদেশ বলছে, পুলিশের পদকের মাপকাঠি ঠিক করার প্রচলিত ব্যবস্থার একটা সামগ্রিক পর্যালোচনা ও সংস্কারের প্রয়োজন।


২০১৯ সালে পুলিশ সপ্তাহ পালিত হয়েছিল ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এবং সেবার প্রায় ৪০০ জন পেয়েছিলেন পুলিশের পদক। যাঁরা পদক পেয়েছিলেন, তাঁদের কৃতিত্বের যেসব বিবরণ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, এর মধ্যে আছে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন ও কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ, কথিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণামূলক’ সাক্ষাৎকারের জন্য (আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে) গ্রেপ্তারে ‘পেশাগত দক্ষতা’র স্বীকৃতি, ডিজিটাল মাধ্যমে কথিত অপপ্রচার বন্ধে সাফল্য ইত্যাদি। 


তখন ‘ভিন্নমত ও প্রতিবাদ দমনের পদক’ শিরোনামে আমি লিখেছিলাম, ‘প্রতিবাদ-বিক্ষোভের বৈধ নাগরিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ ও দমন-পীড়নের স্বীকৃতি দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদক দেওয়ার ঘটনা এক নতুন দৃষ্টান্ত। দৃশ্যত এর উদ্দেশ্য: ১. পুলিশকে দমনমূলক নীতি অনুসরণে উৎসাহ দেওয়া; ২. সরকারবিরোধী সব দল, গোষ্ঠী ও ব্যক্তির মধ্যে ভীতি ছড়ানো, যাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলন দানা বাঁধতে না পারে।’


দুঃখজনক হলেও সত্যি, চলতি বছরের পদকেও এর কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। এবার পুরস্কৃত করা হয়েছে নির্দিষ্টভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের জন্য। প্যারেড গ্রাউন্ডের সৌন্দর্যবর্ধন এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে পুলিশের গোপন নথি সংকলন করে প্রকাশের জন্য দুটি পদক বাদ দিলে বাকিগুলোর অধিকাংশই দেওয়া হয়েছে বিরোধী দলকে দমনে সাফল্যের জন্য। নিউ এজ পত্রিকা পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য যেসব সম্মাননাপত্র তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে বিষয়টির কতটা রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হয়েছে (পুলিশ অফিসার্স অ্যাওয়ার্ডেড ফর ফয়েলিং অপজিশন র‍্যালিজ, ৫ জানুয়ারি ২০২৩)।


১০ ডিসেম্বর ঘিরে পুলিশ রাজধানীতে তিন দিন ধরে যে অবস্থা তৈরি করেছিল, তাতে নিশ্চয়ই তারা বীরত্বের স্বীকৃতি চাইতে পারে! পুলিশের আধুনিকায়নে যুক্ত হয়েছে হেলিকপ্টার। তবে সে হেলিকপ্টার জঙ্গি ছিনতাইয়ের সময় তাদের তাড়া করতে আকাশে ওড়েনি, বরং বিএনপির মহাসমাবেশের ওপরে তা গর্জন করেছে।


এখন গত সপ্তাহের দুটি খবরের প্রতি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে গ্রেপ্তার হয়ে এক মাস দুই দিন জেল খাটার পর সদ্য মুক্তি পাওয়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভের বিরুদ্ধে সরকারের আপিলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনির বলেছিলেন, মহাসচিবের ড্রয়ারে দুই লাখ টাকা এবং তাঁর কার্যালয়ে ককটেল পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে এসেছে যে তাঁরা পরিকল্পনাকারী ও উসকানিদাতা, যা আসামি চালানপত্রে (ফরোয়ার্ডিং লেটারে) উল্লেখ করা হয়েছে।


বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের মির্জা ফখরুলের কক্ষ থেকে ককটেল এবং একই কার্যালয়ের মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসের কক্ষ থেকে চার হাজার কেজি চাল ও ডাল, দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয় বলে জানান এস এম মুনির। দেশের অন্যতম প্রধান দলের মহাসচিব নিজের কার্যালয়ে ককটেল রাখেন—এমন কাহিনির জন্য পুলিশের সৃজনশীলতাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে, তা আমাদের মাথায় আসে না।


অন্য খবরটির শিরোনাম হচ্ছে, ‘পিএম আস্কস পুলিশ টু রিট্যালিয়েট ইফ অ্যাটাকড’ (নিউ এজ, ৪ জানুয়ারি ২০২৩)। দেশের প্রচলিত আইনে আক্রান্ত হলে আত্মরক্ষার বিধান আছে জানি, কিন্তু প্রতিশোধ নেওয়ার কোনো আইন খুঁজে পাচ্ছি না।

বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৩

পাঠ্যবইয়ে হুবহু অনুবাদের দায় স্বীকার করলেন জাফর ইকবাল ও হাসিনা খান - স্বপ্ন বার্তা

পাঠ্যবইয়ে হুবহু অনুবাদের দায় স্বীকার করলেন জাফর ইকবাল ও হাসিনা খান - স্বপ্ন বার্তা

পাঠ্যবইয়ে হুবহু অনুবাদের দায় স্বীকার করলেন জাফর ইকবাল ও হাসিনা খান

 সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান ‘অনুসন্ধানী পাঠ’ বইয়ে হুবহু অনুবাদের যে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্য বলে স্বীকার করে নিয়েছেন বইটির রচনা ও সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত থাকা অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক হাসিনা খান | 


দায় স্বীকার করে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন তারা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সারা দেশে ২০২৩ সালে চালু হওয়া নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক ছাপা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান ‘অনুসন্ধানী পাঠ’ বইটির ব্যাপারে একটি অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে।


অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বইয়ের কোনো কোনো অধ্যায়ের অংশবিশেষ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এডুকেশনাল সাইট থেকে নিয়ে হুবহু অনুবাদ করে ব্যবহার করা হয়েছে। বইয়ের এই নির্দিষ্ট অংশটুকু এবং ওয়েবসাইটটির একই লেখাটুকু তুলনা করে অভিযোগটি আমাদের কাছে সত্য বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।


বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘একই পাঠ্যপুস্তক রচনার সঙ্গে অনেকে জড়িত থাকেন, যাদের শ্রম ও নিষ্ঠার ফলাফল হিসেবে বইটি প্রকাশিত হয়। বিশেষত জাতীয় পাঠ্যপুস্তক রচনার ক্ষেত্রে এই সব লেখকের কাছ থেকেই একধরনের দায়িত্বশীলতা আশা করা হয়। সেখানে কোনো একজন লেখকের লেখা নিয়ে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা আমাদের টিমের জন্য হতাশার এবং মন খারাপের কারণ হয়। ওই অধ্যায়ের আলোচিত অংশটুকু লেখার দায়িত্বে আমরা দুজন না থাকলেও সম্পাদক হিসেবে এর দায় আমাদের ওপরও বর্তায়, সেটি আমরা স্বীকার করে নিচ্ছি। অবশ্যই পরবর্তী সংস্করণে বইটির প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করা হবে।’

সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৪

মোস্তাফিজকে হারাতে হবে বলে মন খারাপ ধোনিদের -স্বপ্ন  বার্তা

মোস্তাফিজকে হারাতে হবে বলে মন খারাপ ধোনিদের -স্বপ্ন বার্তা



শেষ দুই ম্যাচেই ছিলেন খরুচে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে 55 রান করার পর, তিনি লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে 43 রান করেন। দুই ম্যাচেই নেন ১ উইকেট। তবে, 6 ম্যাচে 11 উইকেট নিয়ে এখনও চেন্নাইয়ের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী মুস্তাফিজ।


তাই তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন চেন্নাইয়ের ব্যাটিং কোচ মাইক হাসি। আজ ফের মাঠে নামছে চেন্নাই। আজ চেন্নাই তাদের ঘরের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে খেলবে। যে মাঠে এবারের আইপিএলে সবচেয়ে বেশি সফল মুস্তাফিজ, সেখানে এই মাঠে আরও একবার মুস্তাফিজের ওপর ভরসা করতে যাচ্ছে তারা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মুস্তাফিজকে ১ মে পর্যন্ত ছুটি দিয়েছে। চেন্নাইয়ের এই সময়ের মধ্যে ২৩ এপ্রিল (লখনউ), ২৮ এপ্রিল (হায়দরাবাদ) এবং ১ মে (পাঞ্জাব) ম্যাচ রয়েছে। আগামী ৩ মে চট্টগ্রামে শুরু হবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। আইপিএল থেকে ফিরেই জাতীয় দলে যোগ দেবেন মুস্তাফিজ। মুস্তাফিজ দেশে ফিরলে মন খারাপ হবে মহেন্দ্র সিং ধোনি-মাইক হাসিদের।



গতকাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে হাসি বলেছেন, মুস্তাফিজ বাংলাদেশে ফিরলে চেন্নাই খারাপ লাগবে, 'মুস্তাফিজুর রহমানের দারুণ মন্থর গতি, যা বোঝা কঠিন, বিশেষ করে চেন্নাইতে (চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে)। তিনি বাংলাদেশে ফিরে গেলে আমাদের খারাপ লাগবে, কিন্তু তার দেশ তাকে ডাকছে। যতদিন পারে তাকে রাখতে চাই। আমরা তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট।


আরও একবার বেগুনি ক্যাপ জয়ের বড় সুযোগ রয়েছে মুস্তাফিজের। 11 উইকেট নেওয়া মুস্তাফিজ 3 উইকেট নিলে আবারও উইকেট শিকারীর তালিকায় শীর্ষে থাকবেন। 3 উইকেট নেওয়া সহজ কাজ নয়, তবে লখনউয়ের বিরুদ্ধে চিপোকের ম্যাচে তিনি এই বছর সবচেয়ে সফল হয়েছেন। এখন পর্যন্ত চেন্নাইয়ে ৩ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ।

চেন্নাইয়ে শেষ ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের আন্দ্রে রাসেল ও মিচেল স্টার্কসকে বোকা বানিয়ে ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন মোস্তাফিজ। তবে লখনউয়ের বিপক্ষে মুস্তাফিজের সার্বিক পারফরম্যান্স ভালো নয়। তিনি এখনও পর্যন্ত 3টি ম্যাচ খেলেছেন এবং 1 উইকেট নিয়েছেন, সেটিও চেন্নাইয়ের হয়ে শেষ ম্যাচে।

আইপিএলে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর বেগুনি ক্যাপ এখন যশপ্রিত বুমরাহের। এই ভারতীয় পেসার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে খেলে ৮ ম্যাচে ১৩ উইকেট নেন। যুজবেন্দ্র চাহাল ও হর্ষিত প্যাটেলও ১৩ উইকেট নেন। এছাড়া মুম্বাইয়ের জেরাল্ড কোয়েটজির রয়েছে ১২টি উইকেট।


সব মিলিয়ে একক আইপিএল ম্যাচে মুস্তাফিজের ১১ উইকেট তার তৃতীয় সর্বোচ্চ। মুস্তাফিজ 2016 সালে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে 16 ম্যাচে 17 উইকেট এবং 2021 সালে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে 14 ম্যাচে 14 উইকেট নিয়েছিলেন। আজকের পরে মুস্তাফিজ আরও 2টি ম্যাচ খেলবেন, উইকেটের দিক থেকে তিনি কি তার সেরা মরসুম পেতে পারেন?

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৪

১৬ মাস পর মাঠে ফিরলেন এবাদত

১৬ মাস পর মাঠে ফিরলেন এবাদত


অপেক্ষাটা এবাদত হোসেনের জন্য ছিল দীর্ঘ। প্রায় ১৬ মাসে দুটি বিশ্বকাপ যেতে দেখেছেন, সতীর্থদের খেলতে দেখেছেন অনেক অনেক ম্যাচ।

কিন্তু এবাদতকে এ সময় চলতে হয়েছে ক্র্যাচে ভর করে বা অন্যের নির্ভরতায়।

লিগামেন্টের চোটে পড়ার পর তার অস্ত্রোপচার হয়েছিল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে গত বছরের জুলাইয়ে সবশেষ মাঠে নেমেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচ চলাকালীনই চোট পান ডানহাতি এই পেসার।

১৬ মাস পর শনিবার জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফিরেছেন এবাদত। কক্সবাজারের একাডেমি মাঠে খুলনার বিপক্ষে সিলেট বিভাগের হয়ে খেলছেন তিনি। এ ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করছে সিলেট। গতকাল নিজের মাঠে ফেরা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন এবাদত।

তিনি লিখেছেন, ‘১৬ মাস পর ইনশাআল্লাহ আগামীকাল থেকে আবার ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করছি। আমি আমার পরিবার-বন্ধু এবং যারা আমাকে যাত্রায় সাহায্য করেছেন এবং আমাকে সমর্থন করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। বিশেষ করে, বিসিবির ফিজিও/কোচ ও বিসিবি কর্মকর্তাদের আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। দোয়া করবেন সবাই। ’

বাংলাদেশের হয়ে ২০টি টেস্ট খেলে ৪২ উইকেট নিয়েছেন এবাদত। ১২ ওয়ানডেতে তার শিকার ২২ উইকেট। এছাড়া ৪ টি-টোয়েন্টিতে আছে ৭ উইকেট।