বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

রাজধানীতে রেলের টিকিট কালোজারি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার - স্বপ্ন বার্তা

রাজধানীতে রেলের টিকিট কালোবাজারি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার - স্বপ্ন বার্তা

রাজধানীতে রেলের টিকিট কালোবাজারি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার - স্বপ্ন বার্তা

 রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে রেলের টিকিট কালোবাজারি চক্রের মূল হোতা উত্তম দাসসহ ৪ জনকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।


বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পৃথক দুটি অভিযানে কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।


আজ বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে র‌্যাব-৩ টিকাটুলী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান।



গ্রেফতারকৃতরা হলেন, টিকিট কালোবাজারির রিং মাস্টার উত্তম দাস, তার সহযোগী মোঃ ইলিয়াস (৫৯), মোঃ শাহ আলম (৩৪), মোঃ খোকন মিয়া (৫৫)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫৬টি আসন বিশিষ্ট ৪২টি টিকিট ও ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।


আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন রেলস্টেশনে ট্রেনের টিকিটের কালোবাজারির মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে তৎপরতা চালাচ্ছে।


কমলাপুর রেলস্টেশনে এই কালোবাজারি চক্রের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড উত্তম দাস ও তার সদস্যরা লাইনে দাঁড়িয়ে এনআইডি ব্যবহার করে একে একে টিকিট সংগ্রহ করে।


এছাড়াও বিভিন্ন আইডি (NID) এবং মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করুন। এরপর উত্তম দাসের নেতৃত্বে প্রতিটি ট্রেন ছাড়ার তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে থেকে তারা বেশি দামে টিকিট বিক্রি শুরু করে।


তিনি বলেন, ট্রেন ছাড়ার সময় যত কাছে আসে তাদের মজুদকৃত কালোবাজারি টিকিটের দাম তত বাড়ে। তারা সাধারণত দ্বিগুণ দামে টিকিট বিক্রি করে।



অনেক ক্ষেত্রে তারা সুযোগ ও সময় অনুযায়ী টিকিটের দাম বাড়িয়ে দেয়। এই চক্রটি মূলত সোনার বাংলা, কালনী এক্সপ্রেস, চট্টলা এক্সপ্রেস, তূর্ণা নিশীথা, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস, তিস্তা এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ও পারাবত এক্সপ্রেসের টিকিট কালোবাজারি করে। এই চক্রের আরও সদস্য ইউনিট রয়েছে।


প্রতিটি ইউনিটে 5 থেকে 7 সক্রিয় সদস্য রয়েছে; যারা তাদের টার্গেট করা ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে সাধারণ যাত্রীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে মোটামুটি মুনাফা অর্জন করে।


গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, উক্ত চক্রের মাস্টার উত্তম দাস তার জেলা কুমিল্লার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরিচয় ব্যবহার করে এবং একটি অসাধু চক্রের যোগসাজশে ২০১৮ সাল থেকে টিকিটের কালোবাজারি ব্যবসা শুরু করে। রেলস্টেশনে কাজ করে। তিনি মূলত বিভিন্ন মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করেন এবং টিকিট কাটার কাজ নিজে না করে তার অধীনস্থ ৪ থেকে ৫ জন কর্মী দিয়ে বেশি দামে বিক্রি করেন।


উল্লেখ্য, উত্তম দাস বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান। জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই পেশায় নিযুক্ত হন।


র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক আরো জানান, গ্রেফতারকৃত উত্তম দাসের নেতৃত্বে এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের একটি অসাধু চক্রের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীতে টিকিট কালোবাজারি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সারাদেশে টিকিট কালোবাজারি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। .


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: