বাংলাদেশ রেলওয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রেনের গতি বাড়ানো এবং কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সুবর্ণ এক্সপ্রেস দেশের দ্রুততম ট্রেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের এই ট্রেনটি গন্তব্যে পৌঁছাতে ন্যূনতম ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় নেয়। ট্রেনটি 5 মিনিটের বিরতি বাদ দিয়ে গড়ে 61 কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলে। এমনকি ২০০৯ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দুটি সেকশনকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার আগেও ট্রেনটি সাড়ে চার ঘণ্টায় চট্টগ্রামে পৌঁছে যেত। এই হল পূর্বাঞ্চলের অবস্থা। পশ্চিমাঞ্চলের অবস্থাও একই রকম। সব মিলিয়ে এক কথায় বলা যায়, সময়ের জ্ঞানের অভাব ট্রেন। তবে সর্বশেষ তথ্য বলছে এ থেকে উত্তরণে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। এখন দেখার বিষয় সব সমস্যা কাটিয়ে সময়মতো ট্রেন চালাতে কত সময় লাগে কর্তৃপক্ষের।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রেলের বড় সমস্যা হচ্ছে শিডিউল বিঘ্নিত হওয়া। বিপুল সংখ্যক রেলওয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু যাত্রীসেবার অবস্থা শোচনীয়। সময়মতো ট্রেন চালানো রেলের অন্যতম কাজ কিন্তু তা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কম বা বেশি দরকারী প্রকল্পের দিকে ঝোঁক। প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে রেলওয়েকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এর ফলশ্রুতিতে গত 13 বছরে রেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হলেও ট্রেনের গতি বাড়েনি, বরং কমেছে। এই সময়ে পরিচালন ব্যয়ে ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ১৩ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। এ প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন সাংবাদিকদের বলেন, গণমাধ্যমে রেলের লোকসানের হিসাব সঠিক নয়। কারণ হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জিআরপির খরচও রেলওয়ে বহন করে। গত ছয় মাসে 860 কোটি টাকা আয় হয়েছে।
রেলওয়ের টাইম টেবিল ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। ধরুন একটি ট্রেন তিন ঘণ্টা দেরি করছে। যাত্রীদের কাছে তা জানানোর কোনো চেষ্টা করা হয় না। টিকিটে ট্রেনের যাত্রা ও আসার সময় উল্লেখ থাকলেও বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। টাইমলাইনে সামগ্রিকভাবে শুভঙ্করের ফাঁকিগুলো আছে। একটি ট্রেন এক সেকশন থেকে অন্য সেকশনে আধঘণ্টা দেরিতে পৌঁছলেও সময়মতো পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়।


0 coment rios: