মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

ঘুমের মধ্যে আগুনে পুড়ে মারা গেলেন বৃদ্ধা রাবেয়া - স্বপ্ন বার্তা

ঘুমের মধ্যে আগুনে পুড়ে মারা গেলেন বৃদ্ধা রাবেয়া - স্বপ্ন বার্তা

 

রাবেয়া বেগম নামের ৯৫ বছর বয়সী এক নারী টিনের বেড়ার ঘরে একা থাকতেন। গতকাল সোমবার রাতের কোনো এক সময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে কখন তার বাড়িতে আগুন লেগে যায় সে বুঝতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত আগুনে পুড়ে মারা যান তিনি। গতকাল রাতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মনোহরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাবেয়া বেগম ওই গ্রামের মৃত ফকির আলী মোল্লার স্ত্রী। রাবেয়া বেগমের একমাত্র ছেলে জিন্নাত আলী মন্ডল প্রায় ১২ বছর আগে মারা যান। রাবেয়ার দুই মেয়ে জাহানারা খাতুন ও সাজেদা খাতুন বিবাহিত। তারা নিজ নিজ শ্বশুর বাড়িতে থাকেন। রাবেয়া তার ছেলের স্ত্রী জাহানারা বেগমকে নিয়ে দুই কক্ষের বাসায় থাকতেন। জাহানারা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। প্রতিবেশী আব্দুর রকিব বিদেশে থাকায় রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ঘুমাতেন জাহানারা বেগম। গতকাল তিনি ওই বাড়িতেই ছিলেন।


স্থানীয় লোকজন জানান, গতকাল বেলা দুইটার দিকে রাবেয়া বেগমের বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখেন প্রতিবেশীরা। স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ততক্ষণে দুটি বাড়ির বেশির ভাগই পুড়ে গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাবেয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।


প্রতিবেশী নাজমুল হাসান জানান, সবুর মোল্লা ও সবুজ মোল্লা জিন্নাত আলীর দুই ছেলে। কিছুদিন আগে কাজের সন্ধানে সৌদি আরবে যান সবুর। তারপরও বাড়িতে কোনো টাকা পাঠাতে পারেননি। আর সবুজ ফরিদপুরে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে। তার অবস্থা ভালো নয়। বাড়ি ছাড়া এই পরিবারের কোনো জমি নেই।


স্থানীয় মালিয়াত ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইশারত আলী মোল্লা জানান, গতকাল রাতে ওই বৃদ্ধা বাড়িতে একা ছিলেন। তিনি মাঝে মাঝে এখানে থাকতেন। তবে কীভাবে বাড়িতে আগুন লেগেছে তা কেউ বলতে পারছেন না।


কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রশিদ জানান, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে অল্প সময়ের মধ্যেই সবকিছু পুড়ে যায়। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।


কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম মোল্লা জানান, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা চলছে। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: